কলকাতা, ৩১ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে বিতর্ক মঞ্চ ছাড়াল আদালতেও। সমাবেশে আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি মানা হয়নি রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্টে এমন পর্যবেক্ষণ সামনে আসতেই কালীঘাট তৃণমূলকে কড়া সতর্কবার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভবিষ্যতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
শুক্রবার একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি জানতে চান, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনও অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েনের আইনজীবী আদালতে জানান, গোটা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে রাজ্যের রিপোর্টে উঠে আসে ভিন্ন ছবি। অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, সমাবেশ উপলক্ষে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমর্থকদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এর ফলে ক্যাথিড্রাল রোডের দু’পাশই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আদালতের নির্দেশ ছিল, অন্তত একটি রাস্তা যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণের পরই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদালতের নির্দেশ কোনও পক্ষই অমান্য করতে পারে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আদালত প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। আদালতের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
উল্লেখ্য, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশস্থল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি টানাপোড়েন চলছে। সরকারের পালাবদলের আগেও ধর্মতলার সমাবেশ ঘিরে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। এবার বিজেপি সরকারের আমলে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, সেই ক্ষেত্রেও আদালতের শর্ত পুরোপুরি মানা হয়নি বলে রাজ্যের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের পর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনেও নিয়ম মেনে চলার প্রশ্নটি যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, তা নিয়ে সংশয় নেই।





