কোচবিহার, ৯ অক্টোবরঃ রাত পোহালেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কোচবিহারের ভেনাস স্কোয়ার ক্লাব। দুর্গাপুজোর ৬১তম বর্ষে এ বার তাদের ভাবনায় ‘দেবালয়ের মহিমা’। মণ্ডপের সাজ থেকে আলোকসজ্জা সবেতেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
শারদোৎসবের আবহে প্রতি বছরই নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হয় বিভিন্ন পুজো কমিটি। সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে এ বার দেবালয়ের মহিমাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ নির্মাণ করছে ভেনাস স্কোয়ার ক্লাব। থিমের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে ধর্মীয় স্থাপত্যের আবহ ও তার নান্দনিক সৌন্দর্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। তবে শুধু মণ্ডপসজ্জাই নয়, নজর টানতে চলেছে মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জাও। আলো-ছায়ার মেলবন্ধনে পুজো প্রাঙ্গণকে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বারের পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতে মণ্ডপ তৈরিতে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তাও তুলে ধরতে চাইছে ক্লাব। পুজোর জাঁকজমক যে পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেই ভাবনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এ বারের আয়োজনে।
মহালয়ার আগে থেকেই কোচবিহারের পুজোপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের অপেক্ষা। দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করবেন দর্শনার্থীরা। ভেনাস স্কোয়ার ক্লাবের সদস্যদের আশা, গত বছরের মতো এ বারও পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়বে।
ষাট বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে তাই শেষ পর্যায়ের কাজে ব্যস্ত ক্লাবের সদস্যরা। এখন অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনের। মহালয়ার ভোরে যখন চারদিকে বেজে উঠবে চণ্ডীপাঠ, তখন থেকেই কোচবিহারের এই পুজো মণ্ডপ ঘিরে শারদোৎসবের আবহ আরও জমে উঠবে।





