খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২ জানুয়ারি: আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লাউডন স্ট্রিটের আবাসন ও সেক্টর ফাইভের অফিসে যাঁরা অভিযান চালিয়েছিলেন, তাঁরা আদৌ কোন আধিকারিক তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাড়ির সিকিউরিটি রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হলেও সেখানে কোনও ইডি আধিকারিকের নাম পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, সেদিন নিরাপত্তারক্ষীদের কার্যত ধাক্কা দিয়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা আবাসনে প্রবেশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, অভিযানের সময় নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়েই নাকি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিন নথি ওই বাড়ি এবং সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক দপ্তরে ছিল, যা চুরি করা হয়েছে। এরপর শেক্সপিয়র সরণি থানা ও বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ দায়ের হয়।
এই মামলার তদন্তে শনিবার আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিভিআর সংগ্রহ করেছে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি, সিকিউরিটি রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং প্রতীক জৈনের বাড়ির পরিচারিকা ও নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযানের দিন কী ঘটেছিল, তা জানতে প্রতিবেশী ও অন্যান্য আবাসিকদেরও জেরা করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করেছে ইডি। সেই মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা, ডিসি প্রিয়ব্রত রায়ের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকেও মামলার পক্ষ করা হয়েছে।





