কলকাতা, ২ মেঃ কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র-এ পোস্টাল ব্যালট বাছাই নিয়ে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা।
পরে সেখানে যোগ দেন জোড়াসাঁকোর প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করে এলাকাকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়।
অভিযোগ করে কুণাল ঘোষ জানান, বিকেল পর্যন্ত দলীয় কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে থাকলেও পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ ই-মেল করে জানানো হয় বিকেল চারটায় স্ট্রংরুম খোলা হবে। কিন্তু সেই সময় তৃণমূলের প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “আমাদের জানানো হল, অথচ ঢুকতে দেওয়া হল না কেন?” অন্যদিকে শশী পাঁজার বক্তব্য, স্ট্রংরুম অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা, তা খোলা হলে সব রাজনৈতিক দলকে জানানো বাধ্যতামূলক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা নির্বাচন আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর উপস্থিতিতে তৃণমূল প্রার্থীদের স্ট্রংরুমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কুণাল ঘোষ জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এরপরই অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। তবে শুক্রবারও দফায় দফায় ওই এলাকায় অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।





