খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ জানুয়ারিঃ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বাংলার মেয়েদের উদ্দেশে ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও প্রতিশ্রুতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলা ও ভারতের প্রতিটি কন্যাসন্তানই সমাজের ভবিষ্যৎ রূপকার। শুধু একটি নির্দিষ্ট দিন নয়, সারা বছর জুড়েই বাংলায় মেয়েদের উদযাপন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের কাজ চলতে থাকে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য একটি মেয়ের জন্ম থেকে শুরু করে শিক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকা। সেই লক্ষ্যেই একের পর এক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা হয়েছিল কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে। মেয়েদের স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ রোধ করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি মেয়েকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার পথে মেয়েদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হয়েছে সবুজ সাথী প্রকল্প। স্কুলে যাতায়াত সহজ করতে লক্ষ লক্ষ ছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী ও তরুণের স্বপ্নের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পড়াশোনার আর্থিক বোঝা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিনামূল্যে পাঠ্যবই, স্কুলের পোশাক, জুতো ও মিড-ডে মিল এই সব ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও মেয়ে যেন শুধু অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, মেয়েদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অর্থাৎ বিবাহের সময়েও রাজ্য সরকারের সহায়তা রয়েছে। রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে নববধূদের এককালীন আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যুক্ত হয়ে বর্তমানে রাজ্যের ২.২১ কোটি মহিলা নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাঁদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে বলে দাবি তাঁর।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে মহিলাদের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব। এই কার্ডে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিমার সুবিধা পাচ্ছে গোটা পরিবার।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলার মেয়েরা বিজ্ঞান গবেষণাগার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চ সব ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছে। তাঁদের জন্য এমন একটি সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তারা নির্ভয়ে বাঁচতে পারে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিখতে পারে এবং সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারে।





