নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এ বার একই ফ্রেমে দিল্লির বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR-এ ‘অসঙ্গতি’ ধরা পড়ায় নোটিস পেয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ বার সেই তালিকায় নাম উঠল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তেরও। তবে পরে মাঠপর্যায়ের যাচাই ও নথিপত্র পরীক্ষার পর রেখা গুপ্তের ভোটার-তথ্য বৈধ বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী একা নন। SIR-এর ‘নো ম্যাপিং’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিভাগে মোট ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারের নাম চিহ্নিত হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩১.৬৩ লক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি কোনও এক জন বা কোনও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
রেখা গুপ্তের ক্ষেত্রে আপত্তির জায়গাটি ছিল বয়স-সংক্রান্ত অসঙ্গতি। তাঁর নথিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ চিহ্নিত হয়েছিল। নোটিস দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা এবং বুথ লেভেল অফিসারের শারীরিক যাচাই হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সেই যাচাইয়ের পরে তাঁর ভোটার-এন্ট্রি বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম থাকবে।
অন্য দিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তাঁর স্ত্রী সুনীতা, ছেলে পুলকিত এবং বাবা-মা গোবিন্দ রাম ও গীতা দেবী পরিবারের পাঁচ সদস্যই নোটিস পেয়েছেন। তাঁদের নাম ‘Unmapped with Last SIR’ বিভাগে রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান ভোটার-তালিকার তথ্য আগের SIR-এর তালিকার সঙ্গে নির্দিষ্ট ভাবে মেলানো যায়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে নিজেদের ভোটার-তথ্য যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
এই নোটিস ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টি প্রশ্ন তুলেছে কেজরিওয়াল ও তাঁর পরিবারের নাম কেন এই তালিকায় এল। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অবশ্য, SIR-এর নিয়ম মেনেই অসঙ্গতি বা আগের তালিকার সঙ্গে সংযোগ না মেলার ক্ষেত্রে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অর্থাৎ, দিল্লির SIR-এ আপাতত আসল প্রশ্ন শুধু ‘কার’ নাম উঠল তা নয় কোন তথ্যের ভিত্তিতে নাম চিহ্নিত হল, এবং যাচাইয়ের পরে কার ভোটার-তথ্য বহাল থাকল, সেটিই এখন নজরে।





