বারুইপুর, ৭ জুলাই: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর ছড়িয়ে পড়া অশান্তির পিছনে ‘‘মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি’’ এবং রাজনৈতিক উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি দাবি করেন, অশান্তির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই ২০০ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে পুলিশ সুপারের দফতরে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে গণপিটুনিতে নিহত এক যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে। একাধিক কল রেকর্ডিং পুলিশের হাতে এসেছে। কারা এর পিছনে রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইন নিজের পথে চলবে।’’ তাঁর অভিযোগ, অশান্তির সময় রেললাইন উপড়ে ফেলা-সহ বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণপিটুনিতে নিহত যুবকের প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। ‘‘যদি তিনি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাতেও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’’ বলেন তিনি।
বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনও পুলিশকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ ছাড়া নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁদের বাড়ির সামনে একটি পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে আবার বারুইপুরে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।





