কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর বাজারে স্বস্তির খোঁজে সরকারের নতুন অঙ্ক। চিনির পাইকারি দামে কেজিপ্রতি ৫০ টাকার সীমা টেনে দিল রাজ্য। লক্ষ্য একটাই পাইকারি বাজার থেকে খুচরো দোকান, মাঝপথে আর যেন লাগামছাড়া না হয় দাম। কৃষি বিপণন দপ্তরের আশা, আগামী সাত দিনের মধ্যেই খুচরো বাজারে চিনির দাম নেমে আসতে পারে কেজিপ্রতি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে।
গত কয়েক মাসে চিনির দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে দর। তার আঁচ পড়েছে মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে, মিষ্টির দোকানেও। উৎসবের মরশুমে সেই চাপ কমাতেই পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকে বসে কৃষি বিপণন দপ্তর। ৩, ৫ ও ১১ সেপ্টেম্বরের সেই আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, অন্তত আগামী তিন মাস পাইকারি বাজারে চিনির সর্বোচ্চ দাম ৫০ টাকাতেই আটকে রাখার চেষ্টা করা হবে।
কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদেরও এই ব্যবস্থায় পাশে থাকবে রাজ্য। ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির গোডাউনগুলিতে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ‘সুফল বাংলা’ স্টল এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর আগে সরকারি স্টলেও চিনি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু চিনিই নয়, মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে পিঁয়াজও। মঙ্গলবার খুচরো বাজারে কোথাও কোথাও পিঁয়াজের দাম পৌঁছেছে কেজিপ্রতি ৬৫-৭০ টাকায়। সেই দামে লাগাম টানতে এবার রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন বাজারে নজরদারি চালাবে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। পাইকারি থেকে খুচরো কোথায়, কী ভাবে দাম বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি নজরদারির পাশাপাশি পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামোর কথাও ভাবছে রাজ্য। পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১০টি কোল্ড স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়লে মরশুমি জোগান-ঘাটতির সময়ে বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
উৎসবের আগে তাই বাজারে এখন দু’মুখী লড়াই চিনির দামে সরাসরি সীমারেখা, আর পিঁয়াজের ক্ষেত্রে নজরদারি ও সংরক্ষণের প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত সেই সরকারি অঙ্ক কতটা পৌঁছয় সাধারণের বাজারের ব্যাগে, এখন সেটাই দেখার।





