খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারিঃ আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষার দিনগুলিতে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। এই মর্মে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবছর প্রায় দশ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ সংশোধনীর কাজ চলছে, যেখানে রাজ্যের বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা BLO হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ফলে পরীক্ষার সময়ে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতে, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনা, নজরদারি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিহার্য। এই অবস্থায় পরীক্ষার দিনগুলিতে যদি শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে পরীক্ষা পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
এই বিষয়টি মাথায় রেখেই পর্ষদ সভাপতি নির্দেশ দিয়েছেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষার দিনগুলিতে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত শিক্ষকদের BLO-র দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার ডিউটি চলাকালীন সময়ে তাঁদের কোনওভাবেই নির্বাচনী কাজে তলব করা যাবে না।
রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের এমনভাবে নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত করতে হবে, যাতে তাঁদের মূল পেশাগত দায়িত্ব ও পঠনপাঠনে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, শিক্ষকদের শুধুমাত্র ছুটির দিন বা অবসর সময়ে BLO-র কাজে ব্যবহার করা উচিত।
মাধ্যমিক পরীক্ষাকালীন শিক্ষকদের কেবল ছুটির দিনে বা পরীক্ষার পর নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO), স্কুলশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতেও পাঠানো হয়েছে। পর্ষদের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক মহল ও অভিভাবকরা।





