কোচবিহার, ২২ মার্চ: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি দুই দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও কোচবিহার জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে দাবি উঠছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কোচবিহার জেলার নাটাবাড়ি, সিতাই এবং কোচবিহার দক্ষিণ এই তিনটি আসনে এখনও পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিজেপি। বিশেষ করে কোচবিহার দক্ষিণ ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাটাবাড়ি আসনে সঞ্জয় চক্রবর্তীর নাম ঘোরাফেরা করছে। একইভাবে সিতাই কেন্দ্রে বংশীবদন বর্মণের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে কোচবিহার দক্ষিণ আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
এই পরিস্থিতিতে প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই তাঁর দলীয় কর্মীরা দেওয়াল লিখন, বাড়ি বাড়ি প্রচার এবং জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপির সংগঠন কোচবিহারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই তারা এখনও পর্যন্ত সব আসনে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। মানুষ তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের উপর আস্থা রাখছে বলেই বিজেপি চাপে রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল ইতিমধ্যেই প্রতিটি কেন্দ্রে সংগঠনকে মজবুত করে ফেলেছে এবং নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণায় দেরি হলে সংগঠনগতভাবে কিছুটা প্রভাব পড়তেই পারে, বিশেষ করে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী দল ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের এই তিনটি আসন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী নির্বাচন ও সংগঠন শক্তির প্রশ্নে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি কাকে কাকে প্রার্থী করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





