কলকাতা, ২৩ জুলাইঃ শুধু নির্বাচনে জিতলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে কাজের নিরিখেই এ বার মূল্যায়ন করা হবে জনপ্রতিনিধিদের। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রতি বছর নির্বাচিত হবে ‘সেরা বিধায়ক’। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস।
অধ্যক্ষ জানান, কোনও বিধায়ক কতটা নিয়মিত অধিবেশনে উপস্থিত থাকছেন, আলোচনায় কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন এবং নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের স্বার্থে কী ধরনের কাজ করছেন এই সব দিক বিচার করেই তৈরি হবে মূল্যায়নের রিপোর্ট। সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে একটি স্বাধীন এজেন্সিকে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রতি বছর একজন বিধায়ককে ‘সেরা বিধায়ক’ হিসেবে সম্মানিত করা হবে।
বিধানসভা সূত্রের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু পুরস্কার দেওয়া নয়, জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় করে তোলা। উপস্থিতি, বিতর্কে অংশগ্রহণ এবং জনস্বার্থে কাজ এই তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলে বিধায়কদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য, বিধানসভা কেবল আইন প্রণয়নের জায়গা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধানেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সেই মঞ্চকে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা-ও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে। বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের অভিজ্ঞদের কাছ থেকে কাজ শেখার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, এলাকার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে কীভাবে বিধানসভাকে কাজে লাগানো যায়, তা প্রবীণ বিধায়কদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা প্রয়োজন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এ বারই প্রথম রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নতুন বিধানসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রথমবারের বিধায়ক রয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে অধ্যক্ষের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাদের মতে, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ব্যবস্থা বিধায়কদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে এবং বিধানসভার কার্যকারিতাও বাড়াতে সাহায্য করবে।





