খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বাংলায় নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।এমনকি বিজেপির কোনও প্রতিনিধিকেও শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
কয়েকদিন আগেই বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস। এরপরই রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে তাঁর সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিল অনুমোদন নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ চরমে ওঠে। এমনকি তাঁকে সরানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন জানিয়েছিল ডিএমকে।
এদিকে রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফার পর রাজভবনের(বর্তমানে লোকভবন)অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লেখেন সি ভি আনন্দ বোস। সেখানে পশ্চিমবঙ্গকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি গান্ধীজির বাণী উদ্ধৃত করে লেখেন, “আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।”
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকের মতে, তাঁকে জোর করেই ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। প্রায় তিন বছর চার মাস আগে রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে বাংলায় এসেছিলেন আনন্দ বোস। সেই সময় থেকেই নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা যায়।
বিদায়ের আগে তিনি আরও লিখেছেন, দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ নয়। এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি বাংলাতেই নতুন কোনও ভূমিকায় দেখা যেতে পারে সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালকে?





