বারুইপুর, ২ সেপ্টেম্বরঃ মায়ের গুরুতর অসুস্থতা। সেই কারণ দেখিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। বুধবার সেই আবেদন শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করল আদালত। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির এই সদস্য।
তবে জামিন মিললেও রয়েছে একাধিক শর্ত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে এলাকা ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না লাহেক। পাশাপাশি তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। অর্থাৎ, জামিন পেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি মিলছে না।
জুন মাসে বারুইপুরের খোদারবাজার এলাকায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, পরবর্তী অশান্তিতে এক জনকে গণপিটুনিতে মারধর করে হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে লাহেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২৬টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ১২ জুলাই বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অশান্তিতে যুক্ত থাকা, গণপিটুনির ঘটনায় ভূমিকা এবং পুলিশকে মারধরের মতো একাধিক বিষয়।
অন্য দিকে, লাহেকের গ্রেফতারির পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। সিপিএমের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁদের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ তদন্তের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়ে এসেছে।
আপাতত মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে সীমিত সময়ের জন্য জামিন দিয়েছে আদালত। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে বা তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি ফের আদালতের নজরে আসতে পারে।
এক দিকে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত, অন্য দিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর বারুইপুরের সেই অশান্তির রেশ এখনও কাটেনি। লাহেকের অন্তর্বর্তী জামিন সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন নজর ১০ সেপ্টেম্বরের পর আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত কোন পথে এগোয়।





