শিলিগুড়ি, ৬ আগস্টঃ নেপালে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নজরদারি, নাকা তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র পরীক্ষা শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা, নেপালের অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতী বা জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই সীমান্তজুড়ে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই থেকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলির একাংশ নেপালকে পুনরায় হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি তুলেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। সুনসারি জেলার দেওয়ানগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবিতে ১৫ দফা দাবিপত্র সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই অস্থিরতার মধ্যেই সীমান্তবর্তী পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাতেও চলছে নিবিড় তল্লাশি। সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বৈধ পরিচয়পত্র পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
নেপালের তরাই অঞ্চলের একাধিক জেলায় কারফিউ এবং কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতের সীমান্ত এলাকায় না পড়ে, সে দিকেও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। গোয়েন্দাদের মতে, অশান্তির সুযোগে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।





