নিজস্ব সংবাদদাতা, ২১ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণসভায় যোগ দিতে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তার আগেই বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। কিছু ক্ষণের মধ্যেই থানার পথে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। মঙ্গলবার সকালে হুগলির চুঁচুড়া থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করা হল হুগলি জেলা মমতা তৃণমূলের সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ককে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
দলীয় সূত্রের দাবি, সকালে তারামণ্ডলে কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ স্মরণসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অসিত। সেই সময়ই তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে চুঁচুড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ থানায় বসিয়ে রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর ছড়াতেই জেলায় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
অসিতের গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে কোন মামলায় এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আচরণের অভিযোগ তুলে চুঁচুড়ায় পথ অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অসিত মজুমদার। সেই বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি ছিল, কর্তব্যে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিও করা হয়েছে। সেই ঘটনায় চুঁচুড়া থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়। পরে অসিত মজুমদার-সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চুঁচুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা এবং তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ারও। পরে অবশ্য তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
এর পরেও অন্য একটি মামলায় অসিতকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই মামলাতেও তিনি জামিন পান। মঙ্গলবারের গ্রেপ্তারির ফলে ফের নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে। অন্য দিকে তৃণমূলের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির ঠিক আগে দলীয় নেতাদের লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
একুশে জুলাইয়ের আবহে এই গ্রেপ্তার ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এখন নজর, পুলিশ কোন মামলায় এবং কী অভিযোগে অসিত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে, সেই সরকারি ব্যাখ্যার দিকে।





