মাথাভাঙ্গা, ১৩ এপ্রিলঃ রবিবারের রাজনৈতিক সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার মাথাভাঙ্গায় তৎপরতা বাড়াল নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সরাসরি থানায় পৌঁছে যান শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দেয় প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার মাথাভাঙ্গা শহরের ঝংকার ক্লাব মোড় এলাকায়। বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের প্রচার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তেজনায় রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়াকে মারধর করা হয়েছে। যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। মাথাভাঙ্গা থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময় প্রচার সেরে থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়ে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মনের গাড়ি। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের দুটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উল্টে পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নেন মাথাভাঙ্গা থানার আইসি শুভজিৎ ঝা। তিনি বিজেপি প্রার্থীর গাড়িগুলিকে থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিং।
সোমবার আরও উচ্চপর্যায়ের তদারকি শুরু হয়। থানায় আসেন এডিজি (নর্থ বেঙ্গল) কে. জয় রামন, ডিআইজি (জলপাইগুড়ি রেঞ্জ) অঞ্জলি সিং এবং বিধানসভার পুলিশ অবজার্ভার। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে গোটা ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার জসপ্রীত সিং জানান, “গতকালের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে এই ধরনের সংঘর্ষ মাথাভাঙ্গার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবুও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা সামাল দিতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।





