বর্ধমান, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ সাইনবোর্ড ভাঙা। জানলার কাচ চুরমার। পার্টি অফিসের সামনে পড়ে থাকা ভাঙা সামগ্রী। আর সেই ভাঙচুরকে কেন্দ্র করেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব। বর্ধমানে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগকে ঘিরে মুখোমুখি দক্ষিণ বিধানসভার ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রাজু চন্দ্র এবং সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জল গড়াল থানা পর্যন্ত। সেখানেই দু’জনের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাটি শুক্রবার রাতের। মণ্ডল সভাপতি রাজু চন্দ্রের দাবি, রাতে পার্টি অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সাইনবোর্ডের পাশাপাশি জানলার কাচও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। পার্টি অফিসের সামনে রাখা একটি সামগ্রীও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এই ঘটনার পিছনে মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তীর অনুগামীরা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রাজু। সেই অভিযোগ নিয়েই রাতে থানায় যান তিনি। তবে সেখানেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। থানার চত্বরে মনোজ চক্রবর্তীর সঙ্গে মুখোমুখি হন রাজু। দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একে অপরের দিকে আঙুল তুলে দু’জনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। থানার চত্বরে এমন আচরণে ক্ষুব্ধ এক কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক দু’জনকেই ধমক দেন। পরে দুই বিজেপি নেতাকেই থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অন্য দিকে, রাজুর অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন মনোজ চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, মণ্ডল সভাপতি রাজুর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বালিঘাট এলাকায় তোলা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ বা পুলিশি বক্তব্য এ ক্ষেত্রে সামনে আসেনি।
মনোজের আরও অভিযোগ, ওই সব বিষয়ে আপত্তি জানানোয় তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি তাঁর টোটো পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগের সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে বর্ধমানে বিজেপির দুই স্থানীয় নেতার প্রকাশ্য সংঘাত নতুন করে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।





