কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ এক দিনের ব্যবধান। জায়গা বদলেছে, কিন্তু অভিযোগের ধরন প্রায় একই। শনিবার উত্তরপাড়ায় হামলার অভিযোগের পর রবিবার সকালে ফের আক্রান্ত হলেন বেলেঘাটা কেন্দ্রের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এ বার নিজের বিধানসভা এলাকার কাছেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং হাতুড়ি দিয়ে কাচ ভাঙার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, এক জন বাইক আরোহী রিভলভার বার করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন কুণাল। ঘটনার পর নারকেলডাঙা থানায় পৌঁছে ‘খুনের চেষ্টা’র অভিযোগ তোলেন তিনি।
কুণালের দাবি, রবিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই কয়েক জন তাঁকে অনুসরণ করছিলেন। ফুলবাগান থেকে নারকেলডাঙার মধ্যে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চলে। গাড়ির সামনের ও পিছনের কাচে পাথর ছোড়া হয়। হাতুড়ি দিয়ে কাচ ভাঙার পাশাপাশি এক জন তাঁর কলারও চেপে ধরেছিলেন বলে অভিযোগ বিধায়কের।
কুণালের আরও দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে এক জন রিভলভার বার করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর নিরাপত্তারক্ষী অস্ত্র বার করতেই তাঁরা কিছুটা পিছিয়ে যান বলে জানান বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে খুনের চেষ্টা হল। আমাকে যে কোনও দিন মেরে ফেলতে পারে ওরা।’’ হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনার পরেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে হামলার নিন্দা করে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। দলের প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার হামলার নিন্দা করে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা এবং দলের লোকজনই এর সঙ্গে যুক্ত। বিজেপির কেউ জড়িত নয় বলেও দাবি তাঁর।
এর আগে শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি পাথর ও রড দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙার অভিযোগ করেন তিনি। পরপর দু’দিন একই নেতাকে ঘিরে হামলার অভিযোগে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুই ঘটনারই প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরেই।





