নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা:দিনহাটা থানা এলাকায় নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির পাঁচ নাবালকের দিকে। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় ওই নাবালিকাকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
নাবালিকার মায়ের দাবি, রবিবার পাঁচ নাবালক মিলে তাঁর মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে নাবালিকা। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মঙ্গলবার রাতে মেয়ের মায়ের তরফে দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পাঁচ অভিযুক্তকেই নাবালক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাবালিকার মায়ের আরও অভিযোগ, বিজেপি নেত্রী সাবানা খাতুন তাঁদের টাকা দিয়ে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকার কথা বলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও সাবানা খাতুনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযুক্তেরা নাবালক হওয়ায় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কিশোর বিচারব্যবস্থার নির্ধারিত বিধি মেনেই করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। নাবালিকাকে ঘিরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পকসো আইন মামলা প্রযোজ্য হতে পারে। অন্য দিকে, অভিযুক্তেরা নাবালক হলে জুবিনাল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার পরিস্থিতি এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ধরনের ঘটনায় শুধু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা নাবালিকার চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালীন নাবালিকার পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত কত দূর এগোয় এবং পুলিশ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করে, এখন সে দিকেই নজর।





