কলকাতা, ১৫ মার্চঃ কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার-র বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আহত পুলিশকর্মীদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুই পুলিশ অফিসার এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতেই গিরিশ পার্ক থানায় বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পরই গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মীদের মারধর, দাঙ্গা উসকে দেওয়া, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর এবং বেআইনি জমায়েত-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে চারজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। পরে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। মোদীর সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা শহরে আসেন। অভিযোগ, সেই সময় গিরিশ পার্ক এলাকায় মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে লাগানো ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। অভিযোগ আরও, এরপরই মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সেই সময় বাড়ির মধ্যেই উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হন বলে জানা গিয়েছে। হামলায় বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায় এবং কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মীও আহত হন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীরাও ইটবৃষ্টিতে জখম হন। এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা।
তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সভায় বহিরাগতদের নিয়ে আসা হয়েছিল এবং সেই বহিরাগতরাই বাস থেকে নেমে তাঁর বাড়ির সামনে ভাঙচুর চালায়। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং এটি খুনের ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।





