কলকাতা, ১২ অক্টোবরঃ দিল্লির রাজপথে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আঁচ এ বার কলকাতায়। এসআইআর-কে হাতিয়ার করে ভোট কারচুপির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার তিলোত্তমার বুকে মিছিলের ডাক দিল কালীঘাট তৃণমূল। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই মিছিলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁটতে পারেন বলে জল্পনা। ইতিমধ্যেই কর্মসূচির প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মিছিলের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে পুলিশের অনুমতির উপর।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। সোমবার দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে শামিল হয়েছিল ইন্ডি জোট। সেই কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাম নেতারা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
এই আবহেই কলকাতায় মিছিলের ডাক কালীঘাট তৃণমূলের। প্রচারপত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা এবং প্রতিবাদী তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, জেলায় জেলায়ও কর্মসূচির বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
তবে মঙ্গলবারের মিছিল ঘিরে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ব্যস্ত রাস্তায় মিছিল হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার উপর দুর্গাপুজোর মরসুমে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয় কি না, তা-ই এখন দেখার। অনুমতি না মিললে কালীঘাট তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়েও এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা নেই।
রাজনৈতিক মহলের নজর তাই মঙ্গলবারের কর্মসূচির দিকে। দিল্লিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ, তার পর কলকাতায় মিছিলের ডাক সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত মিছিলে হাঁটবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপাতত পুলিশের অনুমতি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





