দুর্গাপুর, ৫ আগস্টঃ বীরভূমে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিম বর্ধমানেও মিলল নগদের হদিস। দুর্গাপুরের গৌরবাজার এলাকার একটি দীর্ঘদিনের বন্ধ ইটভাঁটায় পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হল ৪৮ লক্ষ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ নগদ কেন সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরিদপুর থানায় একটি চুরির ঘটনার তদন্ত চলছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই গোপন খবর পান তদন্তকারীরা। এরপর গৌরবাজারের পরিত্যক্ত ইটভাঁটায় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ ৪৮ লক্ষ টাকা। টাকার উৎস, মালিকানা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার জানান, “চুরির মামলার তদন্ত চলাকালীন ওই ইটভাঁটায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।” তবে উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে চুরির মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একসময় ওই ইটভাঁটায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
এই প্রেক্ষিতে জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল দাবি করেন, নির্বাচনের আগে দুর্গাপুর–ফরিদপুর এলাকার কিছু তৃণমূল নেতার ওই এলাকায় যাতায়াত ছিল। উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে পুলিশ এখনও কোনও রাজনৈতিক যোগের কথা নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন নগদের প্রকৃত উৎস এবং ওই টাকা সেখানে কীভাবে পৌঁছল, তা উদ্ঘাটন করা। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বিপুল অঙ্কের নগদ উদ্ধারের নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য।





