মাথাভাঙ্গা, ১ আগস্টঃ দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর আবার কোদাল হাতে মাঠে নামলেন গ্রামবাসীরা। কোথাও পূজার ধোঁয়া, কোথাও নারকেল ফাটিয়ে শুভ সূচনা, আবার কোথাও লাড্ডু বিলিয়ে নতুন আশার ভাগাভাগি। মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট খাটের বাড়ি এলাকায় শনিবার এমনই উৎসবের আবহে শুরু হল ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ। বহুদিন পর গ্রামে সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।
শনিবার সকালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পূজার পর ফিতে কেটে এবং নারকেল ফাটিয়ে উদ্বোধন করা হয় কর্মসূচির। এরপর উপস্থিত শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়। কাজের প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক উপস্থিত হন। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর নিয়মিত মজুরির আশায় তাঁরা নতুন করে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পেরে আশাবাদী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙ্গা–১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বাবু বর্মন ও বিপিন বর্মন। এছাড়াও ছিলেন স্থানীয় মণ্ডলের সম্পাদক মহাদেব বর্মন এবং এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতা মহাদেব বর্মন দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বহু শ্রমজীবী পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছিল। তাঁর দাবি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার নতুন উদ্যোগে ‘ভিবি জি রামজি’ নামে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করেছে। সেই প্রকল্পের অধীনেই এদিন ছাট খাটের বাড়ি এলাকায় প্রথম কাজের সূচনা হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের আশা, প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে চললে গ্রামের বহু বেকার ও দিনমজুর পরিবার উপকৃত হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগোবে। তবে প্রকল্পের স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, সময়মতো মজুরি প্রদান এবং আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও নজর রাখার দাবি উঠেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পচাগড়ের বাসিন্দারা। আপাতত প্রথম দিনের কর্মযজ্ঞে আশার আলোই দেখছেন তাঁরা।





