নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে বৈঠকে বসেন এডিবির শীর্ষকর্তারা। বৈঠকে শিল্প, পরিবহণ, লজিস্টিকস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পর্যটন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
নবান্ন সূত্রে খবর, এডিবি পশ্চিমবঙ্গে চারটি ‘সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন’ (সিইআর) গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা-ডানকুনি-দুর্গাপুর-আসানসোল ম্যানুফ্যাকচারিং করিডরের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে হলদিয়া-খড়গপুর শিল্প করিডর এবং উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ করিডর গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শুধু শিল্প নয়, আধুনিক লজিস্টিকস পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও আগ্রহ দেখিয়েছে এডিবি। ডানকুনি, হলদিয়া এবং শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে অত্যাধুনিক লজিস্টিক হাব তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে ইলেকট্রিক বাসের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে।
এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের ভাড়া-ভিত্তিক আবাসন প্রকল্প এবং রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এডিবির প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত। পর্যটন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের মাত্র একদিনের মধ্যেই এডিবির সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ায় তার তাৎপর্য নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলির সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার।
এডিবির দেওয়া প্রস্তাবগুলি এখন বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তা পেশ করা হবে। তাঁর অনুমোদনের পরই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।





