মালদা, ১৬ মার্চঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন ব্যস্ত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে। শাসক শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস,বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তিন প্রধান রাজনৈতিক দলই এবার নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মরিয়া। এই পরিস্থিতিতে মালদার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা।
জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হতে ইতিমধ্যেই শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি জানান, তাঁর অধীনস্থ সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ১০০ জনের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ।
তিনি জানান, আবেদনকারীদের প্রোফাইল ইতিমধ্যেই ছয়টি পৃথক এজেন্সির মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করবে। তাঁর কথায়, “দল যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক কাজের ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করবে।”
অন্যদিকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানও স্পষ্ট। মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশীষ কুন্ডু জানান, দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি-র উপর নির্ভরশীল। তাঁর কথায়, “আমাদের দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয় কালীঘাট থেকে। জেলা থেকে কারা সুযোগ পেলেন আর কারা পেলেন না, তা নিয়ে আমরা এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের প্রত্যেকটিতেই আমাদের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এদিকে কংগ্রেস শিবিরেও চলছে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা। দলের নেত্রী মৌসম বেনজির নূর জানান, এখনও অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম বিচারাধীন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “অনেকেই নির্বাচনে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। শেষ পর্যন্ত কে কোথা থেকে প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ডই নেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদা জেলা বরাবরই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা নিয়ে তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই চলছে জোর হিসাব-নিকাশ। এখন নজর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের ঘোষণার দিকে, যা আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট করে দিতে পারে।





