খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৮ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। ভোটের আর বেশি দেরি নেই মাস ঘুরলেই শুরু হতে পারে নির্বাচনী লড়াই। সেই আবহেই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচারে নেমেছে। বিশেষ করে বিজেপির তরফে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘন ঘন আগমন, সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়ছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার চালানো হচ্ছে। গত ২ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সভা থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে ‘পরিবর্তনের ডাক’ দিয়েছিলেন তিনি।
তবে রবিবার সেই একই মাটিতে পালটা শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল কংগ্রেস। মথুরাপুরে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশাল জনসমাগমের সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা হবে।
সভায় উপস্থিত জনতার ভিড়ের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “চিত্রগ্রাহক বন্ধুদের বলব, আমাকে না দেখিয়ে ১০-১৫ মিনিট এই ভিড়টা দেখান। দেখলেন তো? এটা শুধু ট্রেলার। এখন ট্রেলার দেখালাম, মে মাসে সিনেমাটা দেখাব।” তাঁর এই মন্তব্যে সভামঞ্চে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নিয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, বিজেপির এই কর্মসূচিতে জনসমর্থন তেমন দেখা যাচ্ছে না। দিল্লির শীর্ষ নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমনকি বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও মাঠে মানুষের ভিড় নাকি খুবই কম।
তৃণমূল নেতা বলেন, “আপনাদের সভায় কত লোক ছিল, সেটা আপনারাই জানেন। আর এখানকার ছবিটা দেখুন। এই ভিড়ই বলে দিচ্ছে জনসমর্থন কার দিকে।” একই সঙ্গে তিনি নারী ভোটারদের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “নারীশক্তি আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আর নারীশক্তি পাশে থাকলে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না।”
বিজেপির পূর্ববর্তী নির্বাচনী স্লোগান ‘দোসো পার’-এর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, আগেরবার সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, বিজেপি মাত্র ৭৭টি আসনেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই সংখ্যা আরও কমবে বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে বারবার পরাজিত হয়ে বিজেপি বাংলাকে অন্যভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস জনগণের স্বার্থে রাস্তায় নেমে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে, ততদিন তৃণমূল মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।





