খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বরঃ এসআইআর কাজের চাপেই আরও এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর আত্মহত্যার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হল রাজ্যজুড়ে। বাঁকুড়ার রানিবাঁধে বিএলও তথা প্রধান শিক্ষক হারাধন মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে এই মৃত্যুর জন্য এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছেন।
এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ পোস্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “তড়িঘড়ি, বিশৃঙ্খল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এসআইআর চালানো হচ্ছে। এই অমানবিক চাপই একজন দায়িত্বশীল বিএলও-কে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, “এই প্রক্রিয়ার জেরে আতঙ্ক, মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও ভয়ের কারণে ইতিমধ্যেই ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।”
অভিষেকের অভিযোগ, যে কাজটি পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে হওয়ার কথা ছিল, তা কার্যত ‘বুলডোজার’ চালিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষায় নতজানু হয়ে পড়েছে এবং বিজেপির ক্ষমতার খেলায় সাধারণ মানুষকে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কড়া বার্তায় তিনি লেখেন, “ইতিহাস সব দেখছে। বাংলা ক্ষমা করবে না, ভুলেও যাবে না।”
মৃত হারাধন মণ্ডল রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং একই সঙ্গে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘক্ষণ বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। ভিতরে ঢুকতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর নিথর দেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে রানিবাঁধ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “আমি আর চাপ নিতে পারছি না।” পুলিশ জানিয়েছে, নোটে বিএলও-র দায়িত্ব সংক্রান্ত অতিরিক্ত মানসিক চাপের ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।
হারাধন মণ্ডল এলাকায় একজন শান্ত, দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁকে চিন্তিত দেখালেও এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবেন, তা কেউ ভাবতে পারেননি। এই ঘটনায় স্কুল ও এলাকাজুড়ে শোকের আবহ নেমে এসেছে।





