খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ জানুয়ারিঃ নতুন বছর শুরু হতেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে রক্তাক্ত ঘটনার সাক্ষী হল রাজ্য রাজনীতি। পিকনিক চলাকালীন বাড়ির সামনেই গুলি করে খুন করা হল উত্তর দিনাজপুর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষ (৩৭)-কে। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক বিবাদ না অন্য কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ রায়গঞ্জের মিলনপাড়া মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে মেতে ছিলেন নব্যেন্দু ঘোষ। সেই সময় আচমকাই দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে রাতেই দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই খুন,তা জানতে তদন্ত চলছে।
নব্যেন্দুর মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর মা কান্নাভেজা গলায় বলেন, “ওকে ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে। বুধবার রাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে বেরিয়েছিল।” বাবা প্রণবকুমার ঘোষ জানান, রাত ১২টার আগে বাড়িতে এসে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবার বেরিয়ে যান নব্যেন্দু।
এদিকে, হাসপাতালে ছুটে যান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রন্তু দাস-সহ দলের একাধিক নেতা। জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, “পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, দোষীরা শাস্তি পাবে।” শহর তৃণমূল সভাপতি শিবশঙ্কর রায় চৌধুরীর মতে, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রও হতে পারে। অন্যদিকে, জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত শহরকে দুষ্কৃতীমুক্ত করার দাবি জানান।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নব্যেন্দু ঘোষ রাজনীতির ঊর্ধ্বে জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গোটা জেলার রাজনৈতিক মহলে গভীর শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





