নন্দীগ্রাম, ৬ অক্টোবরঃ মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধান। তার মধ্যেই ফের ভোটের ময়দানে নন্দীগ্রাম। মঙ্গলবার উপনির্বাচনে নিজের পুরনো কেন্দ্রেই ভোট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তাঁর গলায় যেমন শোনা গেল নন্দীগ্রামের সঙ্গে আবেগের টান, তেমনই রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি নিয়েও দিলেন স্পষ্ট বার্তা আইন সবার জন্য সমান।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শান্তিকুঞ্জ থেকে বের হন শুভেন্দু। কনভয় থেকে নেমে টোটোয় চেপে নন্দনায়কবাড় বুথে পৌঁছন তিনি। ভোট দেওয়ার পর বুথেই বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটের হার কিছুটা কম থাকে। তবে নন্দীগ্রামে ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবেই হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
ভোটের পরই আসে তাঁর রাজনৈতিক বার্তা। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমার বিশ্বাস, এ বারও রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।’’ একই সঙ্গে নিজের পুরনো কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। বলেন, ‘‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব।’’
বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন শুভেন্দু। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। এদিন ফের সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে সেখানে অন্য কেউ লড়তেন। ফলে নন্দীগ্রামকেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
তবে ভোটের দিন তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে রেজিনগরের ঘটনা। নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশকে হুমকি, সমর্থকদের মুগুর নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান এবং প্রার্থী না হয়েও বুথে ঢুকে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
হুমায়ুনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘আইন সবার জন্য সমান। ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ঘোরাফেরা করা যায় না। নওদার বিধায়ক আইন ভেঙেছেন, তাই গ্রেফতার হয়েছেন।’’
নিজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মানার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারি নিরাপত্তা পেলেও ভোটের নিয়ম তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বুথের বাইরে গিয়ে প্রচার বা ঘোরাফেরা করবেন না বলেও জানান তিনি। নন্দীগ্রামে ভোটের অঙ্কের পাশাপাশি তাই এদিন সামনে এল শুভেন্দুর ‘নন্দীগ্রাম-যোগ’-এর রাজনৈতিক বার্তাও।



