খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের জেরে বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ। সোমবার এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত, যার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সময়সীমা মেনে চলা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০ দিনের সময় দিতে হবে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজ এগোনো আর সম্ভব নয়। সূত্রের দাবি, এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি রয়েছে। অনেক জেলায় শুনানির নোটিস তৈরির কাজই শেষ হয়নি। অথচ এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিইও দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে এই ভোটারদের তালিকা টাঙাতে হবে। তালিকা প্রকাশের পর কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ দিনের মধ্যে তা জানাতে হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে অ্যাডমিট কার্ড সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কমিশন। মাধ্যমিকের শংসাপত্রের পাশাপাশি অ্যাডমিট কার্ডকেও পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে প্রাপ্তিস্বীকার করে রসিদ দেওয়ার জন্য ইআরও ও এআরওদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিপুল কাজ এত অল্প সময়ে কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়েই চিন্তায় কমিশনের আধিকারিকরা। নির্বাচন কমিশনের আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুনানি শেষ করার সময়সীমা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সূত্রের খবর, নতুন করে ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে পারে ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
তবু এই সময়সীমার মধ্যেও সব কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানিতে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি আরও বড় আশঙ্কা ঘনাচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেলে ভোটের দিনক্ষণেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। সংবিধান অনুযায়ী, ৫ মে’র মধ্যে বাংলায় পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তা না হলে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথ খুলে যেতে পারে। ফলে ভোটার তালিকা প্রকাশে বিলম্ব মানেই ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়েও বড়সড় অনিশ্চয়তা এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।





