খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বরঃ এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তরজা ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। এই আবহে বিজেপিকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেললেন রাজ্যসভার সাংসদ ও গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। উত্তরবঙ্গের দিনহাটার সিতাইয়ে নিজের অনুগামীদের উদ্দেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
অনন্ত মহারাজ বলেন, “যারা চেয়ারে বসে রয়েছে, তারাই আমাদের কাছ থেকে কাগজ চাইছে। আমরা কোন দেশের নাগরিক, তা প্রমাণ করবে কে ? যাদের হাতে খাতা-কলম রয়েছে, তারাই তো পাকিস্তানি বা বাংলাদেশি হতে পারে। তাহলে আমরা কাগজ কাকে দেখাব?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে। অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হবে, কোনও সরকারি সুবিধাও মিলবে না।” এই মন্তব্য রাজবংশী সমাজের মধ্যে এসআইআর নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হলেও শুরু থেকেই ‘বিদ্রোহী’ হিসেবেই পরিচিত অনন্ত মহারাজ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁর বক্তব্যে বারবার বিজেপি-বিরোধী সুর শোনা গিয়েছিল। সেই নির্বাচনে কোচবিহার আসন হারায় বিজেপি। দলের অন্দরেই আলোচনা, সেই পরাজয়ের নেপথ্যে অনন্ত মহারাজের ভূমিকা থাকতে পারে। যাঁর হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই নিশীথ প্রামাণিকের হারের ক্ষেত্রেও তাঁর ‘নীরব বিরোধিতা’ দায়ী ছিল বলে অনুমান করা হয়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সিতাই বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়েও প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই বাংলা ভেঙে পৃথক রাজ্যের দাবিতে সরব হন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে কোচবিহারের অন্তর্ভুক্তি বেআইনি ও অসাংবিধানিক যে দাবির পাশে কখনওই দাঁড়ায়নি বিজেপি।
এর আগেও এক সন্ন্যাসীকে মারধরের ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ।সব মিলিয়ে এখনও তিনি বিজেপির সাংসদ হলেও, দলের সঙ্গে কার্যত তাঁর দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।





