খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একটি বড় নৈতিক জয় পেয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, শুনানি কেন্দ্রে ভোটারের পক্ষ থেকে বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) উপস্থিত থাকতে এবং ভোটারের হয়ে সওয়াল করতে পারবেন। ভোটার চাইলে একজন আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীসহ বিএলএ-দেরও সাহায্য নেওয়া যাবে, তবে তা করতে হলে ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা অনুমতিপত্র থাকতে হবে।
এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল শিবিরে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব।” আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিএলএ-দের উপস্থিতি নিয়ে কমিশনের আপত্তি থাকলেও কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার চাইলে অন্যের সাহায্য নিতে পারবেন।” তবে বিজেপি এই রায়কে নৈতিক জয় হিসেবে মানতে নারাজ। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার মন্তব্য করেছেন, “যতক্ষণ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে না, ততক্ষণ ভোটের সার্থকতা নেই। গণতন্ত্রহীন জায়গায় নৈতিক জয়ের প্রশ্নই ওঠে না।”
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনকে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। শুনানির সময় নথি জমা দিলে ভোটারকে রসিদ দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জেলাশাসকদের নির্দেশকর্তব্য পালন নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে এসআইআর নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আগে কমিশন জানিয়েছিল, এই নথি গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে ধরা হবে।
এসআইআর শুনানি-পর্বে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটারদের হয়রানি কমবে এবং রাজনৈতিক চাপও নিয়ন্ত্রণে আসবে। আগামী দু’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সবমিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের এই জয় শুধু বৈধতা সংরক্ষণ নয়, বরং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা বন্ধ করারও বড় বার্তা বহন করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার যে দ্বন্দ্ব চলছিল, তা নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।





