খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ জানুয়ারিঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ‘ঘর ওয়াপসি’ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো দলে ফেরার কথা ঘোষণা করতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। এর ফলে দীর্ঘদিন পর মালদহের প্রভাবশালী কোতওয়ালি পরিবার ফের এক ছাতার তলায়, কংগ্রেসের পতাকা তলে একজোট হল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌসম নূরের প্রত্যাবর্তনে মালদহে কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে বাড়বে। কোতওয়ালি পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন দলে থাকায় গত কয়েক বছরে মালদহের ভোটব্যাঙ্কে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, মৌসমের কংগ্রেসে ফেরা সেই ফাটল অনেকটাই ভরাট করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে এই দলবদল কংগ্রেসের কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম বেনজির নূর। ২০১৪ সালেও একই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে জয় পান তিনি। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন মৌসম। ঘাসফুল প্রতীকে লড়াই করলেও ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোট ভাগ হওয়ায় আসনটি বিজেপির খগেন মুর্মুর দখলে চলে যায়। পরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত করে।
দলবদলের সময় নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলে মৌসম নূরকে মালদহের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই দায়িত্ব পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রত্যাবর্তন যে মালদহের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।





