কোচবিহার, ৪ সেপ্টেম্বরঃ শরতের আকাশে পুজোর গন্ধ এখনও সেভাবে ছড়ায়নি। কিন্তু কোচবিহারের শিমুলগুড়িতে শুরু হয়ে গেল দেবীর আগমনের প্রস্তুতি। প্রায় তিন শতাব্দীর পুরনো রীতি মেনে জন্মাষ্টমীর শুভদিনে গজাননের ‘শুঁড় পুজো’র মধ্য দিয়ে শুরু হল চক্রবর্তী ঠাকুরবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ। মাটির কাঠামোয় ধীরে ধীরে প্রাণ পেতে চলেছেন একচালার দেবী।
কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের হাড়িভাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলগুড়ি গ্রামের চক্রবর্তী পরিবারে এই দুর্গাপুজো চলে আসছে প্রায় ৩০০ বছর ধরে। সময় বদলেছে, বদলেছে চারপাশের জীবনযাত্রা। কিন্তু বদলায়নি পারিবারিক পুজোর সেই পুরনো নিয়ম। এখনও মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয়ে দশমী পর্যন্ত টানা দশ দিন ধরে চলে দেবীর আরাধনা।
এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, পরিবারের প্রত্যেক শরিক নিজের সাধ্য অনুযায়ী পুজোর খরচ বহন করেন। কারও উপর নির্দিষ্ট আর্থিক বোঝা চাপিয়ে নয়, বরং পারিবারিক বিশ্বাস ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব।
আর প্রতিমা? তার জন্য বাইরে কোনও বড় মণ্ডপ বা কারখানার প্রয়োজন হয় না। চক্রবর্তী ঠাকুরবাড়ির অন্দরেই গড়ে ওঠেন মা দুর্গা। বলরামপুর থেকে শিল্পী নেপাল পাল পরিবারের বাড়িতে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। জন্মাষ্টমীর দিন আনুষ্ঠানিক সূচনার পর ধাপে ধাপে একচালা প্রতিমা গড়ে উঠবে বাড়িরই পরিচিত পরিসরে।
শুধু পুজো নয়, এই বাড়ির দুর্গোৎসব যেন কয়েক প্রজন্মের স্মৃতিরও ধারক। একই উঠোনে বদলেছে মানুষ, বদলেছে সময়, কিন্তু দেবীর আরাধনার রীতি থেকে যায় একই।
তাই শিমুলগুড়ির চক্রবর্তী বাড়িতে দুর্গাপুজো মানে শুধু শরতের উৎসব নয় প্রায় ৩০০ বছরের পারিবারিক বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে নিয়ে চলার এক জীবন্ত ইতিহাস।





