কলকাতা, ১৪ মেঃ একাধিকবার তলব, কাজের অজুহাতে হাজিরা এড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত লুক আউট নোটিস জারি এই টানাপোড়েনের পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে হাজিরা দিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের এই ডেপুটি কমিশনার। সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
এক সময় কালীঘাট এলাকার দায়িত্বে থাকা এই পুলিশ আধিকারিককে ঘিরে সম্প্রতি একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কসবার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে শান্তনুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। জমি দখল, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুলিশ আধিকারিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা।
তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে। সেই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে তদন্ত। পাশাপাশি বহুল আলোচিত বালি পাচার মামলাতেও ডিসিপি শান্তনুর নাম জড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর্থিক দুর্নীতি এবং বেআইনি সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য হাতে পেয়েই তদন্তে গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তল্লাশি। সূত্রের খবর, রাত প্রায় ২টো পর্যন্ত আধিকারিকরা বাড়িতে নথি খতিয়ে দেখেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। ওই অভিযানের পরদিনই তাঁর দুই পুত্র সায়ন্তন সিনহা এবং মণীশ সিনহা-কে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। যদিও সেদিন কেউই হাজিরা দেননি।
এরপর তদন্তকারীরা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকেও একাধিকবার তলব করেন। কিন্তু প্রতিবারই কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে ইডি। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, আদৌ তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন কি না।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালেই ইডি দপ্তরে পৌঁছন ডিসিপি শান্তনু। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে দফায় দফায় জেরা করছেন বলে জানা গিয়েছে। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন, বালি পাচার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য নিয়েই মূলত প্রশ্ন করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক মহলেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





