কলকাতা, ৯ মেঃ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। গেরুয়া পোশাকে তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন, যা পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনীয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্রিগেড চত্বর সেজে উঠেছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহে। কীর্তন, ছৌ নাচ, বাউল গান এবং ধামসা-মাদলের তালে মুখর হয়ে ওঠে গোটা ময়দান। মঞ্চসজ্জায় ছিল বাঙালিয়ানার স্পষ্ট ছাপ—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি, দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও দেবী দুর্গার চিত্রকলার কোলাজ। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র ব্রিগেড।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিলিগুড়ির প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী মাখনলাল সরকার, যিনি একসময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শেষযাত্রায় সঙ্গী ছিলেন। তাঁকে মঞ্চে সংবর্ধনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রণাম করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে তিনি বাম আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ময়দানে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেন তিনি। গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন।
এবারের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পিছনে তাঁর নেতৃত্বকে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। ২০৭টি আসন জিতে প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। জেলা থেকে উঠে এসে রাজ্য পরিচালনার যে স্বপ্ন শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হওয়ার পথে।
ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্তের মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতার হাতেই এখন বাংলার প্রশাসনিক দায়িত্ব। নতুন সরকার কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।





