কলকাতা, ৯ মেঃ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ মঞ্চে ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা স্পষ্ট করল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই শুভেন্দু অধিকারী ‘আমি নয়, আমরা’ এই মন্ত্রে একসঙ্গে কাজ করার ডাক দিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মেগা শপথ মঞ্চে সেই বার্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ‘এক ভারত’-এর ধারণাকে সামনে আনতে চেয়েছে দল।
প্রথম দফায় শপথ নেওয়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কুড়মি, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। মতুয়া সমাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াকে মন্ত্রী করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে বৃহত্তর মতুয়া সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সুব্রত ঠাকুর বা সোমা ঠাকুরকে অন্তর্ভুক্ত না করা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে।
অন্যদিকে, কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। ব্রিগেডের মঞ্চে তিনি সাঁওতালি ভাষায় শপথ গ্রহণ করে বিশেষ নজর কেড়েছেন। এর ফলে কুড়মি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বও এই মন্ত্রিসভায় স্পষ্ট। রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিশীথ প্রামাণিক শপথ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা থাকা এই নেতার ওপর রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একমাত্র মুখ অগ্নিমিত্রা পল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন বিজেপি মহিলা মোর্চার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁর অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণের দিকটি তুলে ধরেছে।
এছাড়াও আরএসএস মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে, যা সংগঠন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ব্রিগেডের শপথ মঞ্চ থেকে বিজেপি সরকার একতা, প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আগামী দিনে এই মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের মানুষের।





