কলকাতা, ৮ মেঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আত্মসমালোচনা। কেন এমন ভয়াবহ ফল হল, তা নিয়ে নেতৃত্ব থেকে কর্মীস্তর পর্যন্ত চলছে কাটাছেঁড়া। এরই মাঝে দলের একাধিক নেতা ও মুখপাত্র প্রকাশ্যে নানা মন্তব্য করায় অস্বস্তি বাড়ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের। অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল তৃণমূল। দলের পাঁচ মুখপাত্রকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে। তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-এর তরফে ওই পাঁচজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা বা দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে কথা বললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেতৃত্বের মতে, এই মুহূর্তে দলের ঐক্য বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু তার মধ্যেই একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর এই প্রথম এত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে তৃণমূল। ফলে দলের ভিতরে চাপা অসন্তোষ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে। আর সেই কারণেই এখন কড়া শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে দল।
যদিও শোকজ পাওয়া মুখপাত্রদের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দল স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কোনওরকম প্রকাশ্য বিদ্রোহ বা নেতৃত্ববিরোধী মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না।
এখন নজর থাকবে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পাঁচ মুখপাত্র কী জবাব দেন এবং তার ভিত্তিতে দল পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেয়। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রণকৌশল নির্ধারণে এই ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





