ঘোষপুকুর, ৮ মেঃ ফাঁসিদেওয়ার ঘোষপুকুরে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ইসলামপুর থেকে শিলিগুড়িগামী একটি সরকারি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি মালবাহী লরির। শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বাসের চালক-সহ অন্তত ২৫ জন যাত্রী এবং লরির চালক ও সহচালক আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুর থেকে শিলিগুড়ির দিকে আসছিল সরকারি যাত্রীবাহী বাসটি। অন্যদিকে বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি মালবোঝাই লরি। ঘোষপুকুর সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় দুই গাড়ির। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। লরির কেবিনেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দুর্ঘটনার পরই এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফাঁসিদেওয়ার ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ। আহতদের একে একে উদ্ধার করে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর লরির চালক কেবিনের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ যৌথভাবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাসের চালকও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তার দু’ধারে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও লরিকে রাস্তার ধারে সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত গতি কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষ হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়িকেই আটক করেছে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ। চালকদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
ঘন ঘন জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময়ই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচলের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। জাতীয় সড়কে আরও কড়া নজরদারি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।





