কলকাতা, ৮ মেঃ প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এবারের মেধাতালিকায় প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে মোট ১৩১ জন পড়ুয়া। উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্র রাজ্যে প্রথম হলেও নজর কাড়লেন বীরভূমের প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ব মেদিনীপুরের অঙ্কণকুমার জানা। একজন দ্বিতীয়, অন্যজন তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলায় গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে।
সকালে ফল ঘোষণার সময় পরিবারের সঙ্গে টেলিভিশনের সামনে বসেছিল বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। পর্ষদের তরফে দ্বিতীয় স্থানে নিজের নাম ঘোষণা হতেই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেনি সে। আনন্দে আত্মহারা প্রিয়তোষ জানায়, “ভালো পরীক্ষা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু র্যাআঙ্ক করব ভাবিনি। ক্লাস নাইনের পর থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেছিলাম।”
সিউড়ির সরোজিনীদেবী সরস্বতী শিশু বিদ্যামন্দিরের ছাত্র প্রিয়তোষ বরাবরই মেধাবী। তবে নবম শ্রেণি থেকেই পড়াশোনায় আরও বেশি মন দেয় সে। মাধ্যমিকের আগে দিন-রাত এক করে প্রস্তুতি নিয়েছিল। বাবা ও মা দু’জনেই পেশায় শিক্ষক হওয়ায় বাড়িতেই পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে সে। ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে তাদের বাড়ি।
ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা। তিনি বলেন, “ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ছিল। আগে প্রায় জোর করে পড়তে বসাতে হত। কিন্তু পরে নিজেই পড়াশোনায় মন দেয়। এত ভালো ফল করবে ভাবিনি।” বর্তমানে বইই যেন প্রিয়তোষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বাসিন্দা অঙ্কণকুমার জানা এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। ছোট থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী অঙ্কণ প্রায় সারাদিনই পড়াশোনার মধ্যে ডুবে থাকে। পরীক্ষার সময় দিনে আট থেকে নয় ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। ভালো ফলের আশা ছিল, তবে এত বড় সাফল্য আসবে তা ভাবেনি পরিবারও।
অঙ্কণের বাবা বুদ্ধদেব জানা পেশায় শিক্ষক এবং মা গৃহবধূ। পড়াশোনার পাশাপাশি ড্রইং ও গান তার পছন্দের বিষয়। যদিও পরীক্ষার চাপে এখন আর আঁকার সময় খুব একটা পায় না। ক্রিকেট খেলতেও ভালোবাসে সে। মায়ের হাতের চিকেন বিরিয়ানি তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। ভবিষ্যতে আইআইটিতে পড়াশোনা করে বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে অঙ্কণ।
দুই কৃতীর সাফল্যে খুশির হাওয়া বীরভূম ও পূর্ব মেদিনীপুরে। পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের মতে, কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতাই তাঁদের এই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।





