কলকাতা, ৮ মেঃ এসআইআর বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিভিউ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের। কমিশন সূত্রে খবর, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিবেচনাধীন নাগরিকদের নথি যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট তিন বিচারপতির একটি কমিটি তৈরি করে। মূলত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষাধিক নাগরিকের নথি কীভাবে খতিয়ে দেখা হবে, তার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি তৈরির দায়িত্বে ছিল এই কমিটি। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এসআইআর তালিকায় মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সেই সমস্ত নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় ফিরেছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও যাঁদের নাম এখনও বাদ রয়েছে, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনগুলির শুনানি এবং নথি বিশ্লেষণের দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি শিবজ্ঞানম। ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালের তরফে দু’দফায় সংশোধিত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও গোটা যাচাই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ শিবজ্ঞানমের ইস্তফা প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে এসআইআর নিয়ে রাজ্যে ইতিমধ্যেই তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মাঝেই ট্রাইব্যুনালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
যদিও কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শিবজ্ঞানমের পদত্যাগে ট্রাইব্যুনালের কাজ থেমে থাকবে না। খুব দ্রুত তাঁর জায়গায় অন্য কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে নিয়োগ করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন একাধিক মামলা এবং বিতর্ক চলছে, তখন এই পদত্যাগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এখন নতুন বিচারক নিয়োগের পর ট্রাইব্যুনালের কাজ কত দ্রুত এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।





