কলকাতা, ৮ মেঃ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েই তুমুল জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির অন্দরেই চলছে বিস্তর আলোচনা। একদিকে নন্দীগ্রাম থেকে দাবি উঠছে, “ঘরের ছেলে” শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে আরএসএস ঘনিষ্ঠ মহলে আবার শোনা যাচ্ছে, কার্তিক মহারাজ-এর নামও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে গেরুয়া শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।
সূত্রের খবর, কলকাতার কেশব ভবনে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিতেও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দিল্লির বাসভবনেও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।
শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, রাজ্যে এক বা দুইজন উপমুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল। দলের খারাপ সময়েও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ আস্থা অর্জন করেছেন তিনি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠকও হয়েছে। ফলে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলেই জল্পনা তীব্র হয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। কারণ রাজনৈতিকভাবে উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গের একাধিক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হতে পারে বলে খবর। নিশীথ প্রামাণিক-কে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি শঙ্কর ঘোষ-ও একই দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারেন।
এছাড়াও ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক বিন্দা। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে উঠে আসছে অভিনেতা-রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষ-এর নাম।
রাজনৈতিক মহলে আরও জোর চর্চা, শিক্ষামন্ত্রী করা হতে পারে স্বপন দাসগুপ্ত-কে। অন্যদিকে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার এবং রাজারহাট-নিউটাউন থেকে জয়ী পিয়ুশ কানোরিয়া-ও মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন।
বিশেষ নজর রয়েছে আর জি কর আন্দোলনের আবেগে উঠে আসা রত্না দেবনাথ-এর উপরও। তাঁকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা।
আগামী ৯ মে ব্রিগেডে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেদিনই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





