কলকাতা, ৮ মেঃ রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশের মতোই বাংলাতেও ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে এবং বহুস্তরীয় কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
কালীঘাটে পৌঁছে প্রথমেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে “ভালো লড়াই” করার জন্য শুভেচ্ছা জানান অখিলেশ। এরপর মমতার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি হারেননি।” গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রীর পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে অখিলেশের অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে বেইমানি হয়েছে। এই নির্বাচনে মাল্টি লেয়ার মাফিয়াগিরি হয়েছে। বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকজন মিলে এই ভোট করিয়েছে।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিরোধীদের হারানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের উচ্চপদের লোভ দেখিয়ে ভোট পরিচালনা করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশের মতো বাংলাতেও বিরোধী দলের এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সমাজবাদী পার্টি নেতা। তাঁর মতে, সেই কারণেই একাধিক আসনে বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে একাধিক ছবি ও তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অখিলেশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিজেপিকে “মহিলা বিরোধী দল” বলেও আক্রমণ শানান অখিলেশ। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইয়ে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি।”
এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাতেও সরব হন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর এড়ানো যায় না।
উল্লেখ্য, সোমবার প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। গেরুয়া ঝড়ে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে। তবে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচনে কারচুপি করে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। কালীঘাটে এসে কার্যত সেই দাবিকেই সমর্থন করলেন অখিলেশ যাদব।





