কলকাতা, ৫ মে: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ভবানীপুর বিধানসভার গণনাকেন্দ্রের ভিতরে তাঁর উপর শারীরিক আক্রমণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “আমার পেটে লাথি মেরেছে, পিঠে লাথি মেরেছে। ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।” এমনকি ওই সময় গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি বন্ধ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কড়া আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি সিআরপিএফ-কে ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে উল্লেখ করে জানান, তাদের প্রতি তাঁর আর কোনও সম্মান অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল হারেনি, ১০০টির বেশি আসন লুট করা হয়েছে। আসল ভিলেন নির্বাচন কমিশন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের তরফে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, “সত্য সামনে আনতেই এই কমিটি কাজ করবে।” উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপিও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম পাঠিয়েছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযোগগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
ভোটের ফলাফল ঘিরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী প্রতিক্রিয়া জানায়।





