কলকাতা, ৫ মেঃ ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন বহু মানুষ, শামিল হয়েছিলেন প্রাক্তন তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তীও। আন্দোলনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর হুমকির মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।
দুই বছর পর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ঘটনার আবেগ যেন নতুন রাজনৈতিক মোড় নিল।
পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন রত্না দেবনাথ যিনি ‘অভয়া’র মা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২৭ হাজার ভোটে জয় পেয়ে তিনি এখন এলাকার জনপ্রতিনিধি। ফল ঘোষণার পরই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভয়ার মায়ের ছবি শেয়ার করে মিমি চক্রবর্তী লেখেন, “এই জয় আমার নিজের জয়ের মতো। কোনও জয়ই যদিও আপনার ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর জি কর কাণ্ডের আবেগ এবং ন্যায়বিচারের দাবিই এই কেন্দ্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। প্রচারের শুরু থেকেই রত্না দেবনাথকে ঘিরে সহানুভূতির ঢেউ ছিল স্পষ্ট। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর সমর্থনে প্রচারে এসে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। যদিও প্রচারের শেষ পর্যায়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য তাঁকে চাপে ফেলেছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে তার বড় প্রভাব পড়েনি।
“আর জি কর আমরা ভুলিনি, ভুলিনি অভয়াকে” এই স্লোগানই যেন গোটা পানিহাটিতে প্রতিধ্বনিত হয়েছে ভোটের সময়। ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের শোক আর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে পথ চলা এক মায়ের জীবনে ২০২৬ সালের ৪ মে যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
এখন রত্না দেবনাথ শুধু একজন শোকাহত মা নন, তিনি প্রায় ২ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি। নিজের মেয়ের সুবিচারের লড়াইয়ের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সমস্যার সমাধানে নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি।





