নয়াদিল্লি, ১ মে: ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে এক সোশাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে। এক সাংবাদিকের দাবি, উত্তরপ্রদেশের এক ক্রিকেটার নাকি তাঁর প্রেমিকাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অভিযোগ, ওই ক্রিকেটার তাঁর প্রেমিকাকে পোশাক, সামাজিক মেলামেশা এমনকি ধর্মীয় আচরণ নিয়েও একাধিক বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বতন্ত্র প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত এক সোশাল মিডিয়া পোস্ট থেকে, যা করেছেন সাংবাদিক অভিষেক ত্রিপাঠী। তিনি দাবি করেন, এক মুসলিম ক্রিকেটার তাঁর প্রেমিকাকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করছেন। যদিও পোস্টে তিনি কোনও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপরই নেটিজেনদের একাংশ নিজেদের মতো করে অনুমান করে নাম জুড়ে দেন সমীর রিজভি এবং এশা সাগর-এর সঙ্গে। যদিও এই দুই ব্যক্তির কেউই এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করা হয়নি।
সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন দাবি করা হচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট সঞ্চালিকার পুরনো কিছু ছবি মুছে ফেলা হয়েছে এবং সেটাকেই এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের এই ধরনের বিষয় নিয়ে কোনও প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে আলোচনা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এদিকে, সমীর রিজভি বর্তমানে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস-এর হয়ে খেলছেন এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। অন্যদিকে, এশা সাগর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টি-২০ লিগে সঞ্চালনার জন্য পরিচিত মুখ।
তবে গোটা ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র একটি সোশাল মিডিয়া পোস্টের ভিত্তিতে কি কোনও ব্যক্তিকে জনসমক্ষে অভিযুক্ত করা উচিত? এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে যে প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ডিজিটাল যুগে তথ্য ছড়ানো যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ভুয়ো বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে জনমত তৈরি হওয়াও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ফলে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে, প্রমাণহীন অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকবেই বলে মনে করছে মহল।





