মালদা, ১ মে: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজনদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহানন্দপুর এলাকার বাসিন্দা অঙ্কন রায় বুকের ব্যথা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বারবার চিকিৎসকদের ডাকা হলেও সময়মতো সাড়া মেলেনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি মৃতের পরিজনদের।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কিছু লোকজন ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চাঁচল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার জানান, “রোগীর শারীরিক অবস্থা আগেই গুরুতর ছিল। চিকিৎসকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন। গাফিলতির কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বলে মত একাংশের।





