আরামবাগ, ২৯ এপ্রিলঃ দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন আরামবাগে এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ছুটি পেয়েই সরাসরি ভোট দিতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মিতালি বাগ। বুধবার বেলা নাগাদ আরামবাগের ১৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।
জানা গেছে, সকালে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর বাড়ি না গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন মিতালি বাগ। শারীরিক অবস্থার কারণে হুইলচেয়ারে করে তাঁকে বুথের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দৃশ্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি বলেন, “কণ্ঠনালি কেটে নিলেও জয় বাংলা বলব।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্যে ফের মমতা ব্যানার্জি-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে মিতালি বাগের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আরামবাগে অভিষেক ব্যানার্জী-র সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ির উপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনায় জখম হন সাংসদ এবং তাঁকে দ্রুত আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।]
এই ঘটনার পর তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।
ভোটের দিন মিতালির এই উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনও হিংসা হবে না। নির্বাচন কমিশন বড় বড় কথা বলেছে, কিন্তু বাস্তবে অন্য ছবি দেখা যাচ্ছে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বিজেপি হিংসা ও ভয়ের রাজনীতি করছে এবং বাইরের রাজ্য থেকে নেতা এনে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
সবমিলিয়ে, হামলার পর হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে আসা মিতালি বাগের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।





