মাথাভাঙ্গা, ২৯ এপ্রিলঃ কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের পাড়ডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলতলা এলাকায় দম্পতির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার ভোররাতে শোওয়ার ঘর থেকেই গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হয় রহিমউদ্দিন বস্তাদার ও তাঁর স্ত্রী আসিয়া বিবির দেহ। ঘটনার পরেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরে ঢুকে দম্পতির নিথর দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে ঘোকসাডাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকদিন আগে থেকেই মৃত দম্পতির পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় এক পরিবারের বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, ওই পরিবারের এক মেয়ের সঙ্গে মৃত দম্পতির নাতির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই এই নৃশংস খুন।
পরিবারের এক সদস্য বলেন, “নাতির সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি মেয়ের পরিবার। সেই কারণেই ঠাকুরদা-ঠাকুরমাকে খুন করা হয়েছে।” তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, এই খুনের পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক বিবাদ, সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা সব দিকই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে জানা গিয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবতন
এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে, প্রেমঘটিত বিবাদের জের নাকি অন্য কোনও গভীর রহস্য দম্পতি খুনের এই ঘটনায় উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





