কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন একদিকে যেমন বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে, তেমনই কিছু জায়গায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণে বিঘ্নের ছবিও সামনে এসেছে। এরই মধ্যে কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের একটি বুথে ইভিএম বিভ্রাটের মুখে পড়লেন অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।
বুধবার সকালে ভোট দিতে নির্দিষ্ট বুথে পৌঁছন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ইভিএমে ত্রুটি থাকায় সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোট না দিয়েই তাঁকে বুথ থেকে ফিরে যেতে হয়। ঘটনাটি ঘিরে সাময়িকভাবে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
বুথ থেকে বেরিয়ে ইভিএম বিভ্রাট প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিরঞ্জিৎ বলেন, “যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে। কিছু ক্ষণ পরে আবার এসে ভোট দিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে কিছুটা সময় লাগতেই পারে এবং তা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
এদিন ভোটদানের গুরুত্ব নিয়েও বার্তা দেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর কথায়, “ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব। এটা আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রত্যেক নাগরিকেরই ভোট দেওয়া উচিত।” নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যন্ত্রে সমস্যা হলে তা মেরামত করতে সময় লাগা অস্বাভাবিক নয়।
উল্লেখ্য, বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা তিনবার জয়ী হয়েছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। ২০১১ সালে প্রথমবার তিনি এই কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক হন এবং পরবর্তী নির্বাচনে নিজের প্রভাব বজায় রাখেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী নন। ২০২৬ সালের ভোটের আগে তিনি নিজেই মমতা ব্যানার্জী-র কাছে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি নিজেই দিদির কাছে অব্যাহতি চেয়েছি। বয়স হয়েছে, আগের মতো কাজ করতে পারি না। দল আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।” ফলে এবারে সাধারণ ভোটার হিসেবেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনি।
যদিও প্রথমবারে ইভিএম সমস্যার কারণে ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে পরে আবার বুথে ফিরে গিয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন বলেই জানিয়েছেন চিরঞ্জিৎ। এই ঘটনা আবারও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি সামনে নিয়ে এল।





